স্মার্ট হওয়া কিংবা নিজের স্মার্টনেস বজায় রাখার ৫ টি উপায়!

আপনি কি মনে করেন যে আপনি যথেষ্ট স্মার্ট নন? কিংবা, প্রায়ই নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয় আপনার? অথবা, আপনার মনে হয় যে, অন্যান্যরা আপনাকে খুব বেশি একটা আমল দিচ্ছে না বা আপনার প্রতি লক্ষ্য করছে না! এসবই কি হচ্ছে আপনার স্মার্টনেস এর কারনে? কারন, আপনি ননস্মার্ট এই জন্য?

যদি তাই হয়, অর্থাৎ, আপনি এসব ঘটার কারন হিসেবে স্মার্টনেসকেই চিহ্নিত করে থাকেন, তবে আসুন আমরা জেনে নেই ৫ টি সহজ উপায় যেগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে, আপনি সহজেই পেতে পারেন আপনার কাঙ্ক্ষিত স্মার্টনেস! তবে একটি কথা সব সময় আমাদের মনে রাখা উচিত, বাইরের স্মার্টনেস অপেক্ষা ভিতরের স্মার্টনেস খুব বেশি জরুরী এবং প্রকৃত স্মার্টনেস বলতে আমাদের ভেতরের স্মার্টনেসকেই বুজানো হয়ে থাকে। সুতরাং, আমাদের ভেতরের এবং বাইরের উভয় স্মার্টনেসই প্রয়োজন।


১। নিজেকে শিক্ষিত করে তুলুন
স্মার্টনেস আনার জন্য, নিজেকে শিক্ষিত করে তুলতে আপনাকে স্কুল কিংবা কলেজে গিয়ে ভর্তি হতে হবে না। আপনি কিছু ইংরেজি গ্রামার শিখবেন, কিছু বাংলা এবং ইংরেজি শব্দার্থ শিখবেন এবং চর্চা করবেন। অন্যদিকে, আপনার জগত যেমন, আপনার কর্মক্ষেত্র, আপনার বাড়ী এবং যেসব স্থানে আপনার যাতায়াত আছে, সেসব স্থানে আপনি যদি আপনার জ্ঞানের পরিধি উন্নত হিসেবে দেখাতে পারেন, তবে, আপনার জগতের লোকেরা অবশ্যই আপনাকে স্মার্ট বলবে। তাই, বিভিন্ন বিষয়ের উপর ও কিছু বইপত্র আপনাকে পড়তে হবে। যেমন, কিছু সাধারণ জ্ঞান(দেশ এবং দেশের বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান) অর্জন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু জ্ঞান, বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জ্ঞান, জনপ্রিয় খেলাধুলাগুলি সম্পর্কে জ্ঞান ... এইরকম রিলেটেড কিছু বিষয়ের উপর আপনি যদি পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, তবে সেগুলো আপনার জগতের মানুষের সামনে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। এরফলে, সেসব মানুষগুলির আপনার সম্পর্কে স্মার্ট ধারণা জন্মাবে যা ধীরে ধীরে আপনাকে তাদের সামনে স্মার্ট হিসেবে তুলে ধরবে।

২। সুঅভ্যাস তৈরি করুন
ভালো অভ্যাস কিংবা সুঅভ্যাস কোনগুলি? যেমনঃ সকাল সকাল ঘুম থেকে জাগা, অধিক রাত্রি জাগরণ না করা, নিয়মিত খাবার খাওয়া, খাবার খাওয়ার পূর্বে ভালো করে হাত ধোয়া, পরিস্কার এবং ইস্ত্রি করা কাপর পড়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

ভালো অভ্যাস, সুস্থ থাকার অন্যতম নিয়ামক। যদি আমরা স্মার্ট এবং সুস্থ থাকতে চাই, তবে আমাদেরকে কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। অভ্যাস কখনো একদিনে গড়ে উঠেনা। অভ্যাস গড়ে উঠতে সময় নেয়। বিশেষত, ভালো অভ্যাসগুলি তৈরি করতে অনেক কাঠখড় পুড়াতে হয়। তবে, অভ্যাস ভালো হোক কিংবা খারাপ হোক, অভ্যাস এর প্রকৃতি অনুযায়ী তা আমাদের বর্তমানে শান্তি/শাস্তি এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধি কিংবা অবনতি ইত্যাদি নির্ধারণ করে।

স্মার্টনেস তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশকিছু অভ্যাস তৈরি করতে হবে, যেমনঃ জানা না থাকলে প্রশ্ন করা, সাপ্তাহিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সে অনুপাতে কাজ করা, পড়াশোনার জন্য সময় রাখা এবং পড়াশোনা করা যাতে নতুন নতুন জ্ঞান আহরণ করা সম্ভবপর হয়, সর্বদা জ্ঞানের অনুসন্ধানে থাকা অর্থাৎ, আশে পাশের সব ধরণের ঘটনা এবং রিসোর্স থেকে শিক্ষা নেয়া। 

আমাদের ভালো অভ্যাসগুলি অন্যদের সামনে আমাদেরকে স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সহায়ক। তাই, স্মার্ট থাকার জন্য কিংবা সুস্থ থাকার জন্য আমাদেরকে সুঅভ্যাস তৈরি করা উচিত।

৩। মস্তিষ্কের কিছু ব্যায়াম করুন
আমাদের ভেতরের স্মার্টনেস নির্ভর করে আমাদের মস্তিষ্কের উপর। কেননা, এই ভেতর বলতে আমাদের মস্তিষ্ক(brain) কেই বুজানো হয়ে থাকে। মস্তিষ্ক এর কার্যক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে, আমাদের স্মার্টনেস ততবেশি বিকাশিত এবং প্রকাশ পাবে। মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু উপায় আছে, যেমনঃ বিভিন্ন ধরণের অংক সমাধান, পাজল গেইম খেলা, বিভিন্ন ধরণের গল্প কিংবা কোন বিষয়ের উপর লেখালেখি করা ইত্যাদি। এসব এর মাধ্যমে, মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম করা হয় এবং এর ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মস্তিস্কের ক্ষমতা আপনাকে স্মার্ট কিংবা আনস্মার্ট করতে যথেষ্ট!


৪। যোগাযোগ ক্ষমতা উন্নত করুন
 আমরা প্রতিনিয়তই ঘরে বাইরে, মোবাইলে কিংবা ইন্টারনেট এর মাধ্যমে নানারকম মানুষের সাথে যোগাযোগ(communication) করছি। এসব, যোগাযোগ এর সময়, আমরা নিজেদেরকে যেভাবে অন্যান্যদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি, ঠিক সেভাবেই তারা আমাদের সম্পর্কে ধারণা করে নেয়। যদি, আমাদের যোগাযোগ এর সময় আমরা স্মার্ট প্রেজেন্টেশন করতে পারি, তবে তারা আমাদের সম্পর্কে উন্নত ধারণা রাখবে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষের সাথে যোগাযোগ করার সময়, তাদের সম্পর্কে আন্তরিকভাবে খোঁজ খবর নেয়া, তাদের বিপদ-আপদে পাশে থাকা, আন্তরিকভাবে মেশা প্রভৃতি আমাদেরকে অন্যদের সামনে স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করে। স্মার্ট হওয়ার জন্য আপনাকে স্মার্ট যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে হবে।


৫। নতুন নতুন স্থান দেখা এবং বস্তু সম্পর্কে শেখার মনমানসিকতা তৈরি করুন
নতুন স্থান ও বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ আমাদের জ্ঞান এর পরিধি বৃদ্ধি করে। এর ফলে, আমরা ওইসব স্থান ও বস্তু সম্পর্কে স্বতঃস্ফূর্ত ধারণা লাভ এবং প্রদান করতে পারি। স্বতঃস্ফূর্ত তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব হয় যার ফলে, অন্যদের নিকট তা আমাদের স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করে।

নতুন নতুন স্থান দেখতে গেলে একই সাথে দুটি উপকার পাওয়া যায়।
যথাঃ
১) মন ফ্রেশ হয়ে যায়।
২) অনেক কিছু শেখা যায়।

 মন ফ্রেশ হওয়া মানে এরপর আমরা যখন আমাদের নিজেদের জগতে ব্যাক করবো, তখন ফ্রেশ মনে আমাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। এরফলে, আমাদের কর্মক্ষমতা(productivity) বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, আমাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়া মানে আমাদের নিজেদের শক্তির ক্ষমতা  ও সামর্থ্য বৃদ্ধি। আর, এসবের বৃদ্ধি মানে, আমাদের স্মার্টনেস এর বৃদ্ধি।


অনেকে ভেবে থাকেন যে, স্মার্ট কাপড়চোপড় পড়লেই বুজি স্মার্ট হয়ে গেলো! প্রকৃত ব্যাপার আসলে কি তাই? স্মার্ট কাপড়চোপড় দিয়ে কি আর কার্যক্ষেত্রে, স্মার্টনেস অটুট রাখা যায়? কলসি দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, ভেতরে পানি না থাকলে তা কি আপনার তৃষ্ণা নিবারন করতে সক্ষম? আপনি যদি প্রকৃত স্মার্টনেস চান, সত্যিই স্মার্ট হতে চান, তবে আপনাকে আপনার চারদিক উন্নত করতে হবে। অর্থাৎ, আপনার ভেতর বাহির সবদিকেই স্মার্ট হতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে, উপরের লেখাগুলি হয়তো আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। কি মনে হয় আপনার?