আমাদের লক্ষ্য ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত

আমাদের লক্ষ্য ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত। অন্যভাবে বলা চলে যে, আমাদের লক্ষ্য এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যাতে আমরা আশে পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে অগ্রসর হতে পারি। আমরা যদি ভারসাম্যপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হই, তবে আমরা আমাদের জীবনে এতো বেশি সমস্যা নিয়ে আসবো যে, তখন অর্জন টাকে আর অর্জন মনে হবে না! সফলতাকে মনে হবে চূড়ান্ত ব্যর্থতা। যদি তাই মনে হয়, তবে কি লাভ হবে এতো কষ্ট, ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে ?

প্রকৃত জ্ঞান অর্জন কিরূপ হওয়া উচিত ?

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও মানুষ সফল হতে পারে, যদি তার মধ্যে নৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন চরিত্র, তার কাজ এবং  আশে পাশের পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, নিজের উপর দৃঢ় বিশ্বাস, বিনম্রতা এবং সৎ সাহস থাকে। শিক্ষা জ্ঞান দেয়, আর জ্ঞান জ্বালায় আলো। কিন্তু আলোর নিচেই থাকে অন্ধকার। তাই, অনেকে প্রকৃত শিক্ষিত হয়, আর অনেকেই আলোর নিচের অন্ধকার টা গ্রহণ করে। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে, অনেকে মুখে মুখে অনেক কিছু বলে ফেলে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।

মনোভাব কিভাবে গঠিত হয়ে থাকে ?

আন্তর্জাতিক বেস্ট সেলার লেখক ও বক্তা শিব খেরা যিনি মানুষকে কর্মে উদ্দীপ্ত করার বিষয় সম্পর্কিত  লেখালেখি এবং বক্তব্য প্রদান করেন তিনি বলেন, "উপযুক্ত গুণমান সম্পন্ন মানুষ তারাই যাদের চরিত্র আছে, সততা আছে, মূল্যবোধ আছে আর সর্বোপরি আছে ইতিবাচক মনোভাব।" তিনি আরও বলেন যে, "সব বিষয়েই প্রশিক্ষণ দরকার। আর প্রশিক্ষণের সফলতা নির্ভর করে উপযুক্ত গুণমান সম্পন্ন শিক্ষার্থীর উপর।"

মনোভাব কি?

মনোভাব(Attitude) একজন ব্যাক্তির আচরণ বা ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের কে ধারণা পেতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, মনোভাব আমাদের নিজেদেরকে ও আমাদের জীবনে ভালো অবস্থানে থাকা কিংবা খারাপ অবস্থানে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। সব মানুষই তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ঘটনা এবং উপাদান সম্পর্কে নিজস্ব মনোভাব পোষণ করে থাকে। তবে, ব্যাক্তিভেদে এই মনোভাব এর যথেষ্ট পার্থক্য ও পরিলক্ষিত হয়। কেননা, সবার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবারিক পরিবেশ, ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রভৃতি একরকম নয়।

মনোভাবের গুরুত্বঃ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মনোভাব

মানুষ মনোভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাতে পারে- কথাটি বলেছিলেন, হার্বাড বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস। মুলত, আমাদের ভেতরে কি আছে, সেটাই প্রধান। আমরা বাহ্যিকগতভাবে দেখতে কেমন, সেটার উপর আমাদের ভবিষ্যৎ সফলতা কিংবা বিফলতা নির্ভর করে না।  আমাদের নিজেদের মধ্যে যা আছে, তাই আমাদের কে উপরে উঠতে অথবা নিচে নামতে সহযোগিতা করে। আর, আমাদের ভেতরের মুল শক্তি ই হল, এই মনোভাব!

সাফল্য লাভের চাবিকাঠি হোল প্রেরণা!

প্রেরণা আমাদের কে সামনে চলার জন্য আমাদের মনের ভেতরে মানসিক শক্তি জাগ্রত করে। এটি ইংরেজি Motivation শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ। সাফল্য লাভের অভিপ্রায়ে প্রেরণা কতোটুকু শক্তিশালী উদ্দীপক, তা শুধুমাত্র তখনি জানা যায়, যখন আমরা কোন উদ্দীপক দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে কোন কাজের প্রতি ধাবিত হই। তখন, যদি আমাদের অন্তরের শক্তির প্রতি আমরা আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারি, তখন সেখানকার শক্তির পরিধি সম্পর্কে ও অভিহিত হতে পারবো। এবং এই অন্তরের শক্তি বা মনের শক্তি ই জাগ্রত হয় প্রেরণা থেকে।