মনোভাব কি?

মনোভাব(Attitude) একজন ব্যাক্তির আচরণ বা ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের কে ধারণা পেতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, মনোভাব আমাদের নিজেদেরকে ও আমাদের জীবনে ভালো অবস্থানে থাকা কিংবা খারাপ অবস্থানে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। সব মানুষই তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ঘটনা এবং উপাদান সম্পর্কে নিজস্ব মনোভাব পোষণ করে থাকে। তবে, ব্যাক্তিভেদে এই মনোভাব এর যথেষ্ট পার্থক্য ও পরিলক্ষিত হয়। কেননা, সবার অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পরিবারিক পরিবেশ, ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রভৃতি একরকম নয়।

সফল ব্যক্তি এবং বিফল ব্যক্তির মধ্যে মনোভাবগত পার্থক্য ছাড়া আর তেমন কোন মৌলিক পার্থক্য দেখা যায় না। সফল ব্যক্তির ইতিবাচক মনোভাব তার মধ্যে সফলতা লাভের অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সমন্বয় ঘটায়।

বিফলতা নিয়ে বলতে গেলে বলা যায় যে, সফল না হওয়া দোষের নয়, বরঞ্চ চেষ্টা না করাই প্রকৃত দোষ! কেননা, চেষ্টা না করলে, আপনি প্রথম থেকেই ব্যর্থ! আর, আমাদের মনোভাব ই আমাদের চেষ্টা করতে উদ্দীপ্ত করে। আমাদের প্রয়োজনীয় প্রেরণা যোগায়।

মনোভাব এর একটি সুমার্জিত সংজ্ঞা হতে পারে এইরকম যে, "কোন বস্তু/অবস্থা/ঘটনা/প্রেক্ষাপট/কাজ/লক্ষ্য সম্পর্কে ব্যক্তির যে অনুকূল অথবা প্রতিকূল ধারণা অথবা প্রতিক্রিয়া তাই মনোভাব।"

সুতরাং, বলা যায় যে, মনোভাব হোল ব্যক্তির অতীত অভিজ্ঞতা, শিক্ষালদ্ধ জ্ঞান, বিচার-বিশ্লেষণ এর ভিত্তিতে সংগঠিত মানসিক এবং স্নায়ুবিক অবস্থা, যা ব্যক্তিকে তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে বিশেষ কায়দায় প্রতিক্রিয়া/মতামত ব্যক্ত করতে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে থাকে।

বর্তমানে প্রেরণা(Motivation), সফলতা(Success), উৎসাহ(Inspiration) প্রভৃতি নিয়ে প্রচুর বাংলা এবং ইংরেজিতে লেখা বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয়ে, ইন্টারনেট এ প্রচুর সমৃদ্ধ  ইংরেজি ব্লগ ও রয়েছে। আর, এইসব বিষয়ে সবচেয়ে হট টপিক হোল,  ইতিবাচক ভাবনার শক্তি(The Power of Positive Thinking or Attitude)। এসব থেকেই সফলতা অর্জন এবং জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনে মনোভাব এর প্রভাব সম্পর্কে সুগভীর ধারণা পাওয়া যায়।


মোদ্দাকথা হোল, মনোভাব আমাদের মানসিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। এবং জীবনে কিছু একটা করতে হলে, আমাদেরকে ইতিবাচক মনোভাব গঠন এর পাশাপাশি নেতিবাচক মনোভাব এর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। আর, তা করতে হলে, এ বিষয়ে সজ্ঞানে এবং সচেতনেতার সাথে মনোভাব সম্পর্কে জেনে, আমাদের জীবন ও এর লক্ষ্যের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে হবে।