প্রকৃত জ্ঞান অর্জন কিরূপ হওয়া উচিত ?

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও মানুষ সফল হতে পারে, যদি তার মধ্যে নৈতিক জ্ঞান সম্পন্ন চরিত্র, তার কাজ এবং  আশে পাশের পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, নিজের উপর দৃঢ় বিশ্বাস, বিনম্রতা এবং সৎ সাহস থাকে। শিক্ষা জ্ঞান দেয়, আর জ্ঞান জ্বালায় আলো। কিন্তু আলোর নিচেই থাকে অন্ধকার। তাই, অনেকে প্রকৃত শিক্ষিত হয়, আর অনেকেই আলোর নিচের অন্ধকার টা গ্রহণ করে। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে, অনেকে মুখে মুখে অনেক কিছু বলে ফেলে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।

প্রকৃতপক্ষে, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির চেয়ে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, প্রকৃত জ্ঞানী হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। 

অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি পান নি, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে অনেক বিশাল সফলতা অর্জন করেছেন। এর কারন কি? কারন, একজন মানুষ বিভিন্ন উপায়ে শিক্ষা পেতে পারেন। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় একটা সংবিধিবদ্ধ উপায়। কিন্তু, বিশ্ব জোরা পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র এইটাও একটা উপায়। অর্থাৎ, জীবনের চলতি পথেও আমরা অনেক কিছু শিখি এবং জ্ঞান অর্জন করি।

তবে, এই না যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রয়োজন নেই! প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির পাশাপাশি আমাদেরকে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য জানতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে এর প্রকৃত আলো জ্বালাতে হবে। তবেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হবে সার্থক ও সুন্দর।

জ্ঞান থেকে যদি শক্তি পেতে চান, তবে আপনাকে জ্ঞান ব্যাবহার করা জানতে হবে। জ্ঞান অর্জন আর তা ব্যাবহার সম্পূর্ণই আলাদা। যদিও, দুইটা পারস্পারিক নির্ভরশীল। একটার পরে আরেকটা আসে। তবে, অনেকেরই জ্ঞানের ব্যাবহার, জ্ঞান অর্জনের পর প্রাকৃতিকভাবেই চলে আসে। তবে, সেরকম স্বদিচ্ছা মনের ভেতর থাকা আবশ্যক।

অভিজ্ঞতালদ্ধ শিক্ষা জীবনের চলতি পথে খুবই কার্যকর। অভিজ্ঞতালদ্ধ শিক্ষায় থাকে এক ধরণের দক্ষতা। অনেকসময় দেখা যায়, অভিজ্ঞতা প্রকৃত জ্ঞান নিয়ে আসে। আর, ব্যক্তি সেই জ্ঞান স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাবহার করার সামর্থ্য অর্জন করে থাকে।

জ্ঞান এমনভাবে অর্জন করা উচিত, যেন তা আমাদের ভেতরে তার আলো জ্বালাতে পারে। যেন আমরা, মেধা এবং সুবিবেচনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। জ্ঞানের আলো ঠিকমতো আমাদের মধ্যে জ্বলে উঠলে, তা আমাদের বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। মেধাবী হলেই বিচার বিশ্লেষণের ক্ষমতা অর্জন করা যায় না। কেননা, অনেককে দেখা যায়, খুবই মেধাবী, কিন্তু তার মধ্যে সুবিবেচনা এবং বিচার-বিশ্লেষণ ক্ষমতা অনুপস্থিত।


মেধা, যোগ্যতা এবং আকাঙ্ক্ষা, এই তিনের বলে মানুষ দক্ষ ও যোগ্য হয়ে উঠে। মেধা দ্রুত শিকতে সহায়তা করে। প্রাপ্ত শিক্ষা যদি কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করার ক্ষমতা ও আকাঙ্ক্ষা থাকে, তবে তাকে যোগ্যতা বলে অভহিত করা যায়। আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ভেতর থেকে কাজ করার প্রাথমিক শক্তিটুকু জাগ্রত করতে পারে। অনেকসময়, প্রাথমিক প্রেরণা টুকু আমরা আকাঙ্ক্ষা থেকেই পেয়ে থাকি। শিক্ষার মাধ্যমে আমার যখন চরিত্র, দায়বদ্ধতা, দৃঢ়বিশ্বাস, নম্রতা এবং সৎসাহস পেয়ে থাকি, তখন আমরা প্রকৃত শিক্ষা পাই। আর মূল্যবোধসম্পন্ন এই প্রকৃত শিক্ষাই আমাদের জীবনের জন্য অনেকবেশি জরুরী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কর্তব্য হচ্ছে ছাত্রদের জ্ঞানার্জনে সহায়তা করা, ব্যবসায়-বাণিজ্য শিক্ষা দেয়া নয়। চরিত্র গঠনে উৎসাহ দেয়া, কলাকৌশলগত শিক্ষায় নয়।
----উইনস্টন চার্চিল

শিক্ষা আমাদের জীবনকে পরিপূর্ণ ও সুন্দর করতে একটি অত্যাবশ্যক উপাদান। কিন্তু, দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য- এই রকম শিক্ষা, আমাদের দিন শেষে বিপদ ই ডেকে আনে।