মানুষ মনোভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার জীবনযাত্রার পরিবর্তন ঘটাতে পারে- কথাটি বলেছিলেন, হার্বাড বিশ্ববিদ্যালয় এর অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস। মুলত, আমাদের ভেতরে কি আছে, সেটাই প্রধান। আমরা বাহ্যিকগতভাবে দেখতে কেমন, সেটার উপর আমাদের ভবিষ্যৎ সফলতা কিংবা বিফলতা নির্ভর করে না। আমাদের নিজেদের মধ্যে যা আছে, তাই আমাদের কে উপরে উঠতে অথবা নিচে নামতে সহযোগিতা করে। আর, আমাদের ভেতরের মুল শক্তি ই হল, এই মনোভাব!
আমরা কোন জিনিস বা ঘটনাকে কিভাবে মূল্যায়ন করি, তাই আমাদের মনোভাব। এবং এই মনোভাব ই আমাদের কোন কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায়, অথবা বিরক্তবোধ করায়। ইতিবাচক মনোভাব আনন্দ নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করে।
শিমুল ভার্সিটি থেকে ক্লাস করে তার পাঁচ তলা ফ্লোর এর বাসায় ফিরলো রাত ৯ টায়। সারাদিন পড়াশোনা, ক্লাস, জার্নি করে ভার্সিটিতে যাওয়া এবং আসা সব মিলিয়ে সে খুবই ক্লান্ত। এমতাবস্থায়, তার মা তাকে বলল,"বাবা যাও তো নিচের দোকান থেকে একটা চা এর প্যাকেট কিনে নিয়ে আসো।" শিমুল তার ক্লান্তিজনিত কারন দেখিয়ে যেতে পারবে না বলে দিলো। ২-৩ মিনিট পরেই তার একটি ফোন এলো। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখে তার এলাকার বন্ধু রাশেদ। সে ফোন টা রিসিভ করলে, রাশেদ চেঁচিয়ে বলল,"মামা, শিগ্রি চলে আয় হিমেল এর বাসায়। জম্পেশ পার্টি হচ্ছে। শিমুল আসছি বলে ফোন কেটে দেয় এবং যাওয়ার জন্য তড়িৎ প্রস্তুতি নিয়ে চলে যায়।
মনোভাব আমাদের কে ক্লান্ত করে তুলতে পারে আবার উজ্জীবিত ও করতে পারে। কোন মানুষের মন্তব্য বা কথা থেকে তার মনোভাব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। মনোভাব হোল সুগভীরভাবে পুঞ্জিভূত থাকা কতিপয় ধারণার সমষ্টি, যা কোন মানুষের মনের গভীরে থাকে।
কোন কোন ছাত্র স্কুলের লেখাপড়ায় খুব ই মনোযোগী থাকে। আবার, কেউ কেউ এর উল্টো। এর কারন কি?
কেউ কেউ কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন এর জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করে যায়, বিফল হয়, আবার আঘাত করে, আবার বিফল হয়। সে আবার চেষ্টা করে এবং পরিশেষে সফলতা লাভ করে।
আবার, অন্যদিকে কেউ কেউ নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে নেমে, সেখান থেকে পিছু হটে। এইরকম হওয়ার কারন কি?
কারন অনেকগুলি ই থাকার কথা। তবে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় সাধারণ যে কারন টা থাকে তা হোল, ওই কাজ বা লক্ষ্য এর প্রতি ব্যক্তির মনোভাব!
ইতিবাচক মনোভাব আমাদের জীবন কে সামনে এগিয়ে নিতে সহয়তা করে। জীবন চলার পথকে মসৃণ করে। আমাদের নম্রতা এবং ভদ্রতা সেখায়। আমাদের চরিত্র গঠনে সহায়ক হয়। এ ধরণের মনোভাব আমাদের কে পরিশ্রমী এবং নির্দিষ্ট লক্ষের প্রতি কাজ করতে সাহায্য করে।
নেতিবাচক মনোভাব ঠিক ইতিবাচক মনোভাব এর উল্টো টা করে। নেতিবাচক মনোভাব আমাদের ভয় বৃদ্ধি এবং সামনে চলার পথে বাধা সৃষ্টি করে আমাদের চলার পথটাকে কণ্টকযুক্ত করা ছারা ভালো কিছুই করতে পারে না।
মনোভাব সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে, ইতিবাচক এবং নেতিবাচক মনোভাব সম্পর্কে সচেতনভাবে ধারণা নিয়ে, আমাদের কে ইতিবাচক মনোভাব গঠনে সক্রিয় হতে হবে। নতুবা, বিফলতা, কর্মবিমুখতা ইত্যাদি আমাদের পিছু ছাড়বে না।
