আমাদের লক্ষ্য ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া উচিত। অন্যভাবে বলা চলে যে, আমাদের লক্ষ্য এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যাতে আমরা আশে পাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে অগ্রসর হতে পারি। আমরা যদি ভারসাম্যপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হই, তবে আমরা আমাদের জীবনে এতো বেশি সমস্যা নিয়ে আসবো যে, তখন অর্জন টাকে আর অর্জন মনে হবে না! সফলতাকে মনে হবে চূড়ান্ত ব্যর্থতা। যদি তাই মনে হয়, তবে কি লাভ হবে এতো কষ্ট, ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে ?
ছয়টি তারের সমন্বয়ে আমাদের জীবন পরিচালিত হয়। আমরা বলতে পারি যে, ৬ টি দিক নিয়ে আমাদের জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকে। অর্থাৎ, এই ছয়টি দিকে আমাদের লক্ষ্য করতে হবেই। অন্যথায়, আমরা একদিকে সফলতা অর্জন করলেও অন্য অনেক দিকে ব্যর্থ হয়ে পরবো। এ ধরণের সফলতায় কোন মুলো থাকে না।
জীবনের এই ৬ টি দিক আগে দেখা নেয়া যাক!
১। পরিবার
আমরা অর্থ উপার্জন, নানা রকম আর্থিক সফলতা আসলে কাদের জন্য করি? অবশ্যই আমাদের ভালো লাগার, খুব কাছের মানুষগুলোর জন্য। আর, আমাদের খুব কাছের মানুষরা তো আমাদের পরিবারের মানুষগুলোই, তাই না?
২। আর্থিক
আমাদের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজন পরে নানা রকম জিনিসপত্রের। আর এইসব আমাদের সংগ্রহ করতে হয় অর্থের বিনিময়ে। অর্থ আমাদের জীবিকার মাধ্যমে আসে।
৩। শারীরিক
বলা হয়ে থাকে যে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে কোন সুখই উপভোগ করা যায় না। চিন্তা করুন তো, আপনি লক্ষ্য অর্জন করলেন, কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যগত কারনে আর আপনার অর্জনের দিকে ফিরেও তাকাতে পারলেন না, তবে কি হবে সেই অর্জনের ?
৪। মানসিক
শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্য ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বরং তুলানামুলকভাবে, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব আরও বেশি। নিয়মিত জ্ঞানের চর্চা মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।
৫। আত্মিক
আমাদের চরিত্র ঠিক না থাকলে, আমাদের কোন কিছুই ঠিক থাকে না। বলা হয়, চরিত্র অমূল্য ধন। আসলেই তাই। চরিত্রের এক একটা উপাদান, আমদের অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষা স্বীকার করে অর্জন করতে হয়। ক্রমাগত নীতিবোধ চর্চা ও সৎ প্রচেষ্টার ফলে আমাদের চরিত্র উন্নত হতে থাকে।
৬। সামাজিক
আমাদের প্রত্যেকই কোন না কোন সমাজের বাসিন্দা। আমাদের প্রত্যেকেরই আমাদের সমাজের প্রতি কিছু না কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এসব পালন না করলে সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর সমাজ অসুস্থ হয়ে পরলে, তার ফল আমাদের ও ভোগ করতে হয়।
আমাদের জীবনের এই ৬ টা তারের একটি ও যদি অনুপস্থিত বা ট্র্যাকচ্যুত হয়, তবে চিন্তা করে দেখুন তো আমাদের জীবনের কি অবস্থা হতে পারে?
১৯২৩ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী এমন ৮ জন মানুষ একটি জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তাদের সম্মিলিত সম্পদ এতো বেশি ছিল যে তা অ্যামেরিকার সরকারের সম্পদ থেকেও বেশি। এইসব ব্যক্তিরা কিভাবে সম্পদ অর্জন করতে হয়, এর উপর খুবই দক্ষ ছিলেন। কিন্তু এই ৮ জনেরই সমাপ্তি ঘটেছিলো অত্যন্ত করুনভাবে। কেউ কেউ আত্মহত্যা করে, আবার কেউ বা জেল খেটে। এরা সবাই সম্পদের পাহাড় গড়েছিলেন, কিন্তু ভুলে গিয়েছিলেন জীবনযাপনের নিয়ম কানুন।
লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের শিখতে হয়, কিভাবে লক্ষ্য কৌশলগতভাবে নির্ধারণ করতে হয়। লক্ষ্য অর্জন করতে কোন কোন পথে পাড়ি দিতে হবে, কি কি অবস্থা মোকাবেলা করতে হবে, কি কি দক্ষতা অর্জন করতে হবে, কিভাবে সম্পদ ব্যবহার করতে হবে প্রভৃতি নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন পড়ে। তবে, আমাদের কিভাবে জীবনযাপন করতে হবে, তাও কিন্তু মাথায় রাখতে হবে এবং সে অনুপাতে জীবনযাপন করতে হবে।
একটা ঘটনা প্রায়ই আমাদের ঘরে ঘরে দেখা যায়। আমরা যখন জীবিকার তাগিদে বাইরে যাই, তখন আমাদের বাচ্চারা ঘুমন্ত থাকে। আবার যখন রাতে ঘরে ফিরি, তখনো দেখা যায় তারা ঘুমিয়ে পড়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে, আজ থেকে ২০ বছর পর যখন পরিবারের দিকে ফিরে তাকাবো, তখন কি দেখবো?
পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমাদের উচিত তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া। অনেকে বলে থাকেন, গুণগত মান ই যথেষ্ট। অর্থাৎ চাহিদা মেটানোর জন্য অর্থের সংস্থান করাটা বেশি জরুরী। কিন্তু পরিমান তথা তাদেরকে নিয়মিত সময় দেয়াটা ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গুণগতমান এবং পরিমান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। এবং দুটোতেই গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পর, আপনি আরও বেশি কাজে উৎসাহ, মনোবল এবং প্রেরণা পাবেন যা আপনার কাজকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
আমাদের যেমন লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠিন পরিশ্রম করা উচিত, তেমনি উচিত আমাদের জীবনের সাথে আমাদের লক্ষ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা। যদি রাখতে পারি, তবেই আমরা লক্ষ্য অর্জনে প্রকৃত সফল হবো। অন্যথায়, লক্ষ্য অর্জন করলেও তা বিফলে যেতে পারে।

