সময় এখন বর্ষাকাল। পূবের আকাশে মেঘ থম থম করছে, এখনি বৃষ্টি নামবে এই রকম ভাব। সুমন ছাতা টা স্কুল ব্যাগ থেকে বের করে নেয়। তারপর হাটতে থাকে বাড়ির উদ্দেশ্যে। তার স্কুল ছুটি হয়ে গেছে ঘণ্টা দেড়েক আগেই। সে তার স্কুলের এক স্যার এর কাছে গণিত প্রাইভেট পরে তারপর বাড়ির দিকে ফিরছিল। সে এবার এসএসসি দিবে। এই জন্য সকালে স্কুল শুরুর আগে এবং স্কুল শেষ হওয়ার পর, এই দুইবেলা ইংরেজি এবং গণিত প্রাইভেট পড়ে।সুমন আকাশের দিকে তাকিয়ে হাঁটার গতি বাড়ালো। যদিও তার কাছে ছাতা আছে, কিন্তু আকাশে যে মেঘ ভর করেছে, তাতে মনে হচ্ছে না যে এই ছাতা দিয়ে রক্ষা শেষ হবে! তার বাড়ি আরও ৩০ মিনিট এর পথ। কাঁধের ব্যাগে বই ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোট আছে। ভিজে গেলে এক্কেবারে সাড়ে সর্বনাশ !
সে রামকৃষ্ণপুর কে কে আর কে হাই স্কুলে পড়ে। স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য স্কুলের এই দিকের ছাত্ররা এই সর্টকাট রাস্তা ব্যাবহার করে যা মিশে গেছে তাদের বাজারে যাওয়ার পথের সাথে। তাই, ওই পথ ও কিছুটা মাড়িয়ে তাকে বাড়িতে যেতে হয়। ছাত্ররা না শুধু, ছাত্রীরা ও ব্যাবহার করে। তবে ছাত্রীদের জন্য আলাদা স্কুল। সেটা তাদের স্কুল থেকে আরও আধা ঘণ্টার পথ এর রাস্তা।
তো সে হাঁটতে হাঁটতে বাজারে যাওয়ার রাস্তায় এসে উঠলো। এমন সময় পিছন থেকে কে যেন ডাক দিলো। সে চকিতে পিছনে ফিরে দেখে তার বন্ধু সেলিম। সে হাসিমুখে দাঁড়ায় সেলিমের জন্য। সেলিম ও তার সাথে পরীক্ষা দিবে এইবার। তবে সে প্রাইভেট টাইভেট পড়ে না। তার নাকি এইসব লাগে না! তার নাকি পড়াশোনা ছারাও মেলা কাজ পড়ে থাকে !
সেলিম দৌরে আসে সুমন এর কাছে। এসে হাঁপাতে থাকে। সুমন বলে কিরে কই গিয়েছিলি ? সেলিম জবাব না দিয়ে সুমনের কাঁধে একটা হাত রেখে, মাথাটা নুইয়ে হাঁপাতে থাকে। সুমন বলে, কিরে এতো টুকু দৌরেই তুই হাঁপিয়ে গিয়েছিস ! সেলিম আস্তে আস্তে বলে, আরে ব্যাটা, তুই বুজবি না। যে দৌর খেলাম আজকে !!!
সুমন অবাক হয়। সে সেলিমের দিকে কড়া চোখে তাকিয়ে বলে, কি হয়েছে রে ! খুলে বলতো শুনি।
সেলিম, সুমনের কাধ থেকে হাত টা নামিয়ে একটু দূরে সরে যায়। তারপর একটু দূরে সরে, এদিক-সেদিক একটু তাকিয়ে কি যেন দেখে নেয়। তারপর বলে, আরে গেছিলাম শারমিনদের বাড়িতে। ওর বড়ভাই আরও কয়েকটারে নিয়া, আমারে মারতে এসেছে। কোন রকম প্রান নিয়ে বেঁচে এসেছি ! আর, দেখ, শালী কেমন ! একটু মায়া দয়া ও হয় না আমার প্রতি তার! এতো ভালোবাসি, অথচ এখনো সাড়া দেয় না !
সুমন বলে, সেকি! শারমিন রে এখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলতে পারিস নাই ! এর আগে তো ৫-৬ টারে ঘুরাইলি। সেইগুলা আছে নাকি এখনো ?
সেলিম কপট রাগ দেখায় সুমনের প্রতি। সে বলে, ধুর ব্যাটা। একটাই পরছি রিয়েল প্রেমে। আগের সব ছিল ফাউ!
সুমন বলে, ভাই যাইহোক, আমি যাই। তোর বাড়ি কাছে। বৃষ্টি নামলে দৌরে চলে যাবি। আমার বাড়ি দূরে আছে। আমি যাই। তোর সাথে প্যাঁচাল পড়ে কড়া যাবে। এই বলে সুমন আর দাঁড়ায় না। সেলিম পিছন থেকে ডাকতে থাকে। সুমন না ফিরে হাঁটার গতি বারায়। সেলিমের বাড়ি কাছেই। তারা যেখানে দারিয়ে ছিল সেখান থেকে দুই মিনিট মাত্র। তার গ্রামের নাম বাঁশগাড়ি। সুমনের গ্রাম আর রামকৃষ্ণপুর এর মাঝামাঝিতে বাঁশগাড়ি অবস্থিত।
সুমন কিছুক্ষণ সামনে এগুনোর পরে পিছনে ফিরে দেখে সেলিম তার দিকে তাকিয়ে আছে। তাকে পিছনে ফিরতে দেখে, হাত উঁচিয়ে ডাকতে লাগলো। সুমন তা অগ্রাহ্য করে হাঁটার গতি আরও বারায়। আর এমন সময় নামে বৃষ্টি। সুমন হাতের ছাতাটা মেলে দৌর লাগালো।
( চলবে )